This is default featured slide 1 title

You can completely customize the featured slides from the theme theme options page. You can also easily hide the slider from certain part of your site like: categories, tags, archives etc. More »

This is default featured slide 2 title

You can completely customize the featured slides from the theme theme options page. You can also easily hide the slider from certain part of your site like: categories, tags, archives etc. More »

This is default featured slide 3 title

You can completely customize the featured slides from the theme theme options page. You can also easily hide the slider from certain part of your site like: categories, tags, archives etc. More »

This is default featured slide 4 title

You can completely customize the featured slides from the theme theme options page. You can also easily hide the slider from certain part of your site like: categories, tags, archives etc. More »

This is default featured slide 5 title

You can completely customize the featured slides from the theme theme options page. You can also easily hide the slider from certain part of your site like: categories, tags, archives etc. More »

 

কৃত্তিবাস কথা বলে কবিতায়

একার নয়, কয়েকজনেরও নয়, কবিতা কথা বলুক অনেকের হয়ে—এমনটাই চেয়েছিলেন ওঁরা। দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে, মাটির কাছাকাছি কবিতাকে নিয়ে আসাই ছিল ওঁদের একমাত্র লক্ষ্য। প্রাথমিকভাবে ওঁরা, তিনজন। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, দীপক মজুমদার এবং আনন্দ বাগচী। প্রথমে ভেবেছিলেন, একটি কবিতার বই প্রকাশ করবেন। কিন্তু সিগনেট প্রেসের কর্ণধার দিলীপকুমার গুপ্তর (ডি.কে) পরামর্শে মত বদল, কৃত্তিবাসের জন্ম। জন্ম না অবির্ভাব ? আবির্ভাব বলাই যুক্তিযুক্ত, কারণ বাংলা সংস্কৃতি জগতে রবীন্দ্র পরবর্তী যুগে জনমানসে এত আলোড়ন তুলতে পারেনি কোন পত্রিকাই। সময় গড়ায়, সময়ের নিয়মেই প্রথম তিনজনের সঙ্গে ক্রমশ আরো অনেক তরুণ কবি (শক্তি-সন্দীপন-তারাপদ,শরৎকুমার,সমরেন্দ্র প্রমুখ) যুক্ত হন কৃত্তিবাস পত্রিকার সঙ্গে। কবিতার পাশাপাশি কৃত্তিবাসী কবিদের বর্ণময় জীবন মুখেমুখে ঘুরতে থাকে, প্রবাদের মতোই। সে জীবন শুধু যে প্রথা ভাঙা বা উল্টে দাও পাল্টে দাও স্লোগান নির্ভর ছিল না সেকথাও বারবার প্রমাণিত হয় কৃত্তিবাসের কবিদের যাপনে, আচরণে। তরুণরা তো ছিলেনই, প্রবীণ কবিদের সাহায্য থেকেও বঞ্চিত হয়নি কৃত্তিবাস পত্রিকা। আক্ষরিক অর্থেই, অচিরেই, একটি সামগ্রিক আন্দোলনের রূপ হয়ে ওঠে কৃত্তিবাস। সাফল্যের সঙ্গে বেশ কিছুদিন প্রকাশের পর প্রধান সম্পাদক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতিতে কৃত্তিবাস পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছিলেন শরৎকুমার মুখোপাধ্যায় ও বেলাল চৌধুরী। তাঁদের পরে কিছুদিন সেই গুরু দায়িত্ব সামলিয়েছেন সমরেন্দ্র সেনগুপ্ত। যতদিন কৃত্তিবাস প্রকাশিত হয়েছে হাজার অসুবিধে সত্ত্বেও কৃত্তিবাস তার কৌলিন্য হারায়নি। ভাঁটা পড়েনি জনপ্রিয়তায়। তাই সময় ও অর্থাভাবে কৃত্তিবাস প্রকাশ বন্ধ হয়ে গে্লে, শ্রী সত্যজিৎ রায় মহাশয় সম্পাদককে ব্যক্তিগত চিঠিতে লিখেছিলেন, "কৃত্তিবাস-এর তিরোধানে কষ্ট পেয়েছি..." এক সময় দীর্ঘ কয়েক বছর বন্ধ ছিল কৃত্তিবাস পত্রিকা। তারপর ১৯৯৭ সালে ২৭শে জানুয়ারি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও ভাস্কর দত্তর উদ্যোগে "নব পর্যায়ে কৃত্তিবাস"-এর পুন:প্রকাশ। এই পর্বে পরিবর্তিত সামাজিক পরিস্থিতিতে ও বিশ্বায়ণের ঘূর্ণিঝড়েও তার চরিত্র বদল করে না কৃত্তিবাস । অতীতের মতোই তরুণ কবিদের মুক্তমঞ্চই থাকে কৃত্তিবাস। তাদের য্দৃচ্ছ পাগলামিকে শুধুমাত্র প্রশ্রয় দেওয়াই নয় তার সঙ্গে তাদের এই পাগলামিকে লালন করার দায়িত্বও যেন হাতে তুলে নেয় কৃত্তিবাস। তাই ১৯৯৯ সাল থেকে আবার শুরু হয় কৃত্তিবাস পুরস্কার প্রদান। এখন প্রতিবছর বাংলা ভাষার দুজন সম্ভাবনাময় তরুণ কবিকে প্রদান করা হয় কৃত্তিবাস পুরস্কার । কৃত্তিবাস আদতে লিটিল হলেও নব-পর্যায়ে সে অনেক পরিণত। সম্পাদক ও কৃত্তিবাস অনুরাগী অসীম রায়ের প্রচেষ্টাতে তাই নবপর্যায়ের এক পর্বে ট্রাস্টি বোর্ড গঠিত হয়।ব্যক্তি মানুষের অনুপস্থিতিতে বা খামখেয়ালে পত্রিকা প্রকাশ যেন বন্ধ না-হয় সেইদিকে লক্ষ্য রাখাই ছিল এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। কৃত্তিবাসের প্রাণপুরুষ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের অকস্মাৎ তিরোধানের পরেও, সেই উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়নি। আজও, কৃত্তিবাস কথা বলে কবিতায়।